সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

অচেনা অতিথি বহুভাষী প্রকৃতি ছেড়াবেড়া ছেড়াবেড়া অবস্থা

 অচেনা অতিথি বহুভাষী প্রকৃতি ছেড়াবেড়া ছেড়াবেড়া অবস্থা

একটা আধুনিক প্রকৃতির ধরন কেমন হওয়া উচিৎ। এর জন্য কি ধরনের শিক্ষার প্রয়োজন। কিংবা আদৌ কোন শিক্ষার প্রয়োজন আছে কিনা।1900 সালের পর থেকে অনেকগুলো যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটে গেছে এই বিশ্বে। অনেক নতুন নতুন আবিষ্কার হয়েছে। বিশ্বের নতুন কিছু মহাদেশে মানুষের  অভিবাসন শুরু হয়েছে। কিছু জাতি অর্থাৎ পশ্চিমা দেশগুলো দখল করে নেয় নতুন আবিষ্কৃত ওই মহাদেশ গুলো। দখল করে নেয় এবং ব্যাপকহারে অভিবাসন শুরু করে।বিশ্বে এছাড়া তখন তেমন কোনো নতুন পরিবর্তন হয়নি বললেই চলে। দরিদ্র এবং অনুন্নত দেশগুলোতে যুদ্ধ এবং মহামারীতে বহু লোক মারা যাচ্ছে। মানুষের মৃত্যুর মিছিলে দেশান্তরী হওয়ার জন্য বিভিন্ন ছোট ছোট রাজ্যে এবং সাম্রাজ্যে তখন ব্যাপক একটা সাড়া পড়ে যায় ।অনেকেই তখন গোলযোগের মধ্যেও নতুন আবিষ্কৃত দেশগুলির দিকে মনোযোগ দেয় । যেখানে জীবনের অবস্থানের পরিবর্তন করার জন্য মানুষ অনেকেই তখন মরিয়া হয়ে উঠে ।তখন সেখানে পাড়ি জমাতে চেষ্টা করে। আর কিছুই ছিল কিছুই তেমন করার ছিল না। করছে সামান্য এবং কিছু মুষ্টিমেয় মানুষ। মানব জাতির ধারণা ততদিনে বদলে গিয়েছে। মানুষ কয়েকটি বৃহৎ sect বা বৃহৎ জাতির ধারণা নিয়ে ততদিনে বুঝতে শিখেছে কিছু কিছু জাতির  অভিভাবকত্ব এবং কিছু কিছু জাতির শাসক চরিত্রের মধ্যে বাকি সব জাতিরা শুধুমাত্র শোষিত রয়ে গেছে।


নতুন আবিষ্কৃত দেশগুলোর ঘটনাপ্রবাহ শিল্প এবং সাহিত্যের ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান শুরু করে । তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ছাড়াও সাগর পারের অনুন্নত দেশগুলোর শিল্প-সংস্কৃতির ভেতরেও এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। চলচ্চিত্রের আবিষ্কার এবং উন্নয়নের পরে সেটা আরো ভালোভাবে জনমানুষের ছড়িয়ে পড়ে।


নামে আরেকটি নতুন ধর্মীয় শ্রেণীর সৃষ্টি হয়। শিল্প কলকারখানা ব্যাপকহারে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হওয়ার কারণে নতুন একটি ধারনার তৈরি হয় যারা শ্রমিকশ্রেণী নামে পরিচিত। এবং পুঁজিবাদী অর্থনীতির সূচনা হয়।কিন্তু অনুন্নত বিশ্বে এর প্রভাব বাস্তবতা তেমন একটা পড়েনাই উন্নত বিশ্ব তখন ও শোষিতের মত হয়ে চিন্তাভাবনা করে যাচ্ছিল তাদের নিজস্ব দর্শন এবং ন্যায়-নীতি ধারণার মধ্যে তখনও কোন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় নাই এ সময়ের পরবর্তীতে ঔপনিবেশিক শক্তির কিছুটা উথান ঘটে, যারা অনুন্নত বিশ্বের অর্থনীতিকে তখন তাদের  নুতন ধারণার পুঁজিবাদী অর্থনীতির সাথে এক কাতারে শামিল করার নাম করে শোষণের নুতন নুতন হাতিয়ার উদ্ভাবন করে ফেলে।


আমার আলোচনার বিষয়বস্তু হল শিল্প সংস্কৃতি এবং দার্শনিক চিন্তা ভাবনায় সেসব পরিবর্তনের কী প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছিল। সেটা কি ইতিবাচক ছিল নাকি নেতিবাচক এটা এখন আলোচনার বিষয়বস্তু। স্বভাবতই উন্নত বিশ্বের দার্শনিক ভাবনাগুলি ছিল মোটামুটি ব্যাপক আকারের এবং সেখান থেকেই মূলত দার্শনিক ভাবনাগুলি বিস্তৃতি লাভ করে এবং চারিদিকে বিভিন্ন নামকরা দার্শনিকদের নাম ছড়িয়ে পড়ে। একটি এর মধ্যে একটি স্বাভাবিক ধারণা ছিল পুঁজিবাদী অর্থনীতির বিরোধিতা করা পুঁজিবাদী অর্থনীতির বিরোধী শক্তি যারা পরবর্তীতে রাজনৈতিকভাবেও সক্রিয় হয়ে পড়ে আরেকটি ধারণার মধ্যে রয়েছে যারা উপনিবেশিক শক্তির সাথে একজোট হয়ে কাজ করেছে এরা শিল্প এবং সাহিত্যের ক্ষেত্রে ব্যাপক ভাবে তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি লক্ষ করা গেছে। পুঁজিবাদী অর্থনীতির ধারণা তখনো কেবলমাত্র ধারণা ।পশ্চিমা বিশ্ব বাদে অন্য কোথাও তার তেমন কোন একটা প্রভাব পরিলক্ষিত করা যায় নি ।


এমতাবস্থায় বিভিন্ন দেশে শুধুমাত্র উপনিবেশিক শক্তির সাথে লড়াই করার মত একটা মন মানসিকতায় কেবল তৈরি হচ্ছিল অথচ নতুন কোনো দার্শনিক চিন্তা-ভাবনার ও তেমন কোন একটা পরিচয় আমরা পাইনা শুধু বিপ্লবাত্মক চিন্তার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ ও রাষ্ট্রগুলি সক্রিয় রাজনীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রগুলি তখন উপনিবেশিক শক্তির সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, স্বাধীনতার যুদ্ধ। শিল্প এবং সংস্কৃতিতে ওইসব দেশের ঘটনাপ্রবাহের প্রচুর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। এভাবেই উন্নত এবং অনুন্নত দেশের শিল্প-সংস্কৃতি দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়ে। একদিকে উন্নত বিশ্বের পুঁজিবাদী চিন্তা-ভাবনা ও প্রভু সুলভ মনোভাব এবং অন্যদিকে শোষিত এবং অবদমিত রাষ্ট্রগুলির স্বাধীন হবার চিন্তাভাবনার প্রয়াসে শিল্প এবং সংস্কৃতি আন্দোলন। সাধারণের চিন্তা ভাবনা কিন্তু তখনও এসবের পরিবর্তনের তেমন একটা প্রভাব লক্ষ্য করা যেত না অথবা সাড়া পড়েনি শিল্প বিপ্লবে। ধর্মীয়ভাবে কনজারভেটিভ শ্রেণীর লোকেরা তখন অভিবাসনের দিকে মনোযোগী হয় বেশি করে চিন্তার বিষয় কিছু আলাদা আছে বলে মনে করত না সে শ্রেণীর লোকেরা। কিন্তু এই উভয় শ্রেণীর জন্য একটি উপযুক্ত কর্মক্ষেত্র তখন সামনে বিরাজমান ছিল। তা হচ্ছে প্রতিবাদ।এবং ভাষা আন্দোলন।


ভারতীয় উপমহাদেশে বহুকাল ধরে মোগল সাম্রাজ্যের শাসনের পতনের পর তখন কিছুকাল বিভিন্ন ঔপনিবেশিক শক্তির উদ্দেশ্যের মুখোশের আড়ালে তাদের বাণিজ্যিক সকল উদ্দেশ্যের মুখোশের পিছনে এই অঞ্চলে তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বাড়ানোর চেষ্টা তদবীরও চলতে থাকে সমানে। বহু ক্ষেত্রেই এটা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যে পরিসমাপ্তি হয়। এ রকম একটি ঘটনা হল বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদৌলার ইংরেজদের হাতে শোচনীয় পরাজয়ের ঘটনা।  এবং এর ফলাফল বাংলা অঞ্চলের সমস্ত  ক্ষমতা ইংরেজদের হাতে চলে যাওয়ার ঘটনা।অন্যভাষায় এ অঞ্চলের সর্বময় ক্ষমতা ইংরেজের হাতে হস্তান্তরের ঘটনা। এরপরের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটি ছিল বঙ্গভঙ্গের ঘটনা। এটি ইংরেজদের সুপরিকল্পিত চাল ছিল। সেটা এখন ইতিহাসের সাক্ষী। বঙ্গভঙ্গে এরপর আঞ্চলিক রাজনীতিতেও এর বিশাল প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। আজ পর্যন্ত সেটি বিদ্যমান আছে।বাংলা ভাষার মধ্যে ব্যাবহারীক স্তরের চেয়েও এই ভাষার মধ্যেকার ভাববাদী অবস্থানটি অনেক বেশী সম্ভাবনাময় বলে বুঝতে পেরেছিল অনেকেই। এরা সবাই বন্ধু ছিলো না।এটা যে কতখানি সত্য এই উপলব্ধি বাঙ্গালী মানষের সবচাইতে বড় শিক্ষা।ভাষা আন্দোলনের সময় থেকে এই আজ পর্যন্ত একটি প্রকৃয়া চলমান রয়েছে এই ভূপ্রকৃতিকে ঘিরে।



(প্রবাদ:- একেতো উলাইল্লা বুড়ি তার উপর ঢোলের বাড়ি)

চর্যাপদ এর এই অঞ্চলে বারো ভূঁইয়াদের এ অঞ্চলে প্রথমে মোগলদের প্রভাব-প্রতিপত্তি এবং পরে  শোচনীয়ভাবে যার পরিবর্তন ঘটে এবং যার ফলশ্রুতিতে ইংরেজদের পাকাপোক্তভাবে দখলে চলে যায় এঅঞ্চল। তারপর 200 বছরের শাসনের পর স্বাধীনতার মুখ দেখে বাংলা অঞ্চল। এখানে চির সবুজের দেশ হওয়া সত্ত্বেও বহুবার দুর্ভিক্ষ হানা দিয়ে গেছে। বিদেশী শাসকদের হিংস্র নখরে এই মাটি রক্তাক্ত ও ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বহু বার। তারপর তাদের রক্তও মিশে গেছে এই মাটির সাথে। এখনকার সংস্কৃতি এবং শিল্পচর্চার ভিতর সেসবের বহু কিছুই আমরা  বুঝতে পারি ও দেখি কিন্তু সমাজ পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় আজ পর্যন্ত আমরা নিজেদের জন্য একটি স্বাধীন অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া কিরকম হতে হবে এই রূপরেখা চিন্তাভাবনা ভেবে বের করতে পারিনি।এক্ষেত্রে ব্যর্থ আমরা এখনও পুঁজিবাদী ধ্যান-ধারণার গোলাম হয়ে আছি। শুধুমাত্র যেন এখন দাসে পরিণত হওয়ার অপেক্ষায় আছি। কেননা কৃতদাসদের জীবন ইতিহাস এখন হাতের কাছেই অতীত স্মৃতি হবার অপেক্ষায় রয়েছে শুধু।


শুরুতে যেটা বলেছি, ঔপনিবেশিক আমলে থেকে যে অর্থনৈতিক পরিবর্তন সূচিত হয়েছিল উন্নত দেশগুলোতে এবং সেটা তাদের শিল্প ও সংস্কৃতিতে যে রকম ভাবে প্রভাব ফেলেছিল এখানে তার ছায়াটাও পড়েনি কেন। সে সব উন্নয়নের শুধু মাত্র সাগরপাড়ের কাহিনী হিসেবে শুনে শুনে,তার চেয়ে বাতিক্রম  আমাদের এই অঞ্চলে তখনকার পরিবর্তন হয়েছে ভিন্ন রকমের। এখানকার মানুষ তখন উপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির চিন্তায় ব্যস্ত ছিল এবং এখানকার সংস্কৃতির চিন্তাও ছিল সেই সূত্রেই গড়ে ওঠা ধারাবাহিকতা। 


কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের পরবর্তী সময়কালের ভাবনাগুলি অনেকটাই পরিবর্তিত হয়ে যায়। এইসব ভাবনার ভিতর অর্থনৈতিক মুক্তির চিন্তাভাবনা শুধুমাত্র রাজনৈতিক ভাষার মাধ্যমে প্রকাশিত হতে দেখা যায় তার চেয়ে বেশী অগ্রসরমান হতে ব্যার্থ হয়েছে।ফলে স্বাধীনতার উচ্চমাত্রার প্রভাব সংস্কৃতিতে খুবই কম পড়েছে। কারণ এই সংস্কৃতি শুধুমাত্র পাশ্চাত্য ধ্যান ধারণার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এক ধরনের মিশ্র সংস্কৃতি যেখানে সব সময় পাশ্চাত্যের বিরোধিতা করাই ছিল মুখ্য বিষয়। পাশ্চাত্যের বিরোধিতা করা কি সঠিক ছিলো নাকি ভুল আমি সে সমালোচনা যেতে চাই না এখন। আমি শুধু এটুকুই বোঝাতে চাইছি যে এখনকার যে অর্থনৈতিক মুক্তির চিন্তা সেটি আমরা পাশ্চাত্যের কাছ থেকে ধার হিসেবে পাইনি আমরা শুধুমাত্র রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছি। অর্থাৎ একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য কিরকম অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি হওয়া উচিত সেটা ছিল শুধুমাত্র রাজনৈতিক ভাবনার অংশ,রাজনীতিবিদদের চিন্তারই অংশ। একটি মুক্ত সমাজের অংশ হতে পারেনি এখনও।


চর্যাপদ এর সময় থেকেই অর্থাৎ বারোশ বছর আগে থেকেই এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক একটি পরিবর্তনের ধারা লক্ষ্য করা যায়। এ অঞ্চলের মানুষ পুরা কাল থেকেই অতিন্দ্রীয় শক্তির চর্চা করত। এখানকার মানুষ খুবই অতিথিপরায়ণ ছিল এবং ফলে পীর-ফকির মুর্শিদ,আউলিয়া এদের পদার্পণে এ মাটি ধন্য হয়েছে।কথিত আছে যে আমাদের তখনকার সেই পুরাকালের অর্থনীতি ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ তখন নাকি গোয়াল ভরা গরু এবং গোলা ভরা ধান ছিল। মানুষের কোন অভাব-অনটন ছিল না।এটাও একটি কারণ ছিল যে এই অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে প্রসিদ্ধ বিভিন্ন পর্যটকদের কাহিনীতে যেটা লিপিবদ্ধ রয়েছে যে বহির্বিশ্ব থেকে অনেক লোক নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করার জন্য একসময় এখানে পদার্পণ করেছিলো এবং সময় অতিক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে তারাও এই মাটির সাথে মিশে যায়। তিতুমীরের মতো যোদ্ধা যেমন এ মাটিতে তাদের সমৃদ্ধ পদচারণা করেছিল তেমনি মীরজাফরের মত বেঈমানদের সমাধি হয়েছে এই মাটিতে। মাটির নিচেই চাপা পড়েছে তাদের ইতিহাস। ইংরেজের আমল থেকেই শুধু মাটির নীচের চাপা পড়া কাহীনি আলোর উপরে উঠতে শুরু করে। ভাগ্যের পরিবর্তনটাও সেজন্যই মনে হচ্ছে ইংরেজের অনুসরনেই হচ্ছে। কিছু মানুষের দূর্নীতির ফলে দেশটার সার্বিক পরির্তনে গনমানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কোন প্রমান নাই এখানে।


ডাইনোসর প্রসঙ্গ। সাবজেক্ট হিসাবে ডাইনোসরের ডিম পরিস্ফুটনে সমাজবিজ্ঞান সূচীপত্রই আমার বেশী পছন্দের। এক্সপেরিমেন্টেশান।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বর্তমান বিশ্বে ধর্ম বিশ্বাসের গতিবিধি কেমন করে জীবনকে প্রভাবিত করছে

 বর্তমান বিশ্বে ধর্ম বিশ্বাসের গতিবিধি কেমন করে জীবনকে প্রভাবিত করছে বা অন্যকথায় বললে যেভাবে বিশ্বাসের প্রথাগত অগ্রগতি হচ্ছে পার্থীব উন্নয়ন ধারনা গ্রহীতা এইসব বিভিন্ন সমাজ বাস্তবতায়। আমরা যে পদ্ধতিতে বিশ্বাসকে ধারন করতে চেস্টা করি তা হল অনুভব এবং বিশ্বাসের এক বা একাধিক সামন্তরিক অগ্রগতি।কিন্তু যেটা দুঃখজনক সেটা হচ্ছে এই অবস্থা হল সেই অবস্থা যখন ব্যাক্তির সরাসরি উপস্থিতিকে অস্বীকার করা হয় বা মানব অস্তিত্বকেই প্রকারান্তরে অস্বীকার করা হয়ে থাকে।যেন মানুষের চৈতন্য লাভের পরে এটাই ঈশ্বরের চোখ এবং যেন এটাই হচ্ছে চেতনার দৃস্টিভঙ্গী। অতঃপর কোন কোন ব্যাক্তির ক্ষমতাকে মানুষের চাহিদার মধ্যে বিতরন এবং রূপায়ন করা।এই উপলক্ষে ধর্মকে আরও প্রনবন্ত করতে অনেকগুলি পদক্ষেপ নেয়া হয় ও প্রকল্প প্রনয়ন করা হয়। আর বিশ্বাসকে চাহিদার সমান্তরালে রাখলে পরে তখন মানুষের সক্ষমতা পূর্বের চেয়েও আরো বেড়ে যায় তাই তখন উন্নয়নের গতিবধিও সুনিশ্চিত হয়।সরকারকেও এসব অবহিত করা।বিশ্বাস পূর্ববর্তী সক্ষমতার এসব কথা মাথায় রেখে মানুষের বিশ্বাসের ব্যাপ্তিটুকু বাড়ালে তখন উন্নয়নের ভাষার মধ্যেই পাওয়া যাবে বহুমূখী মনের বিশ্বাসের একটি সার...

অলিখিত আমাদের অন্তর।

  শৃঙ্খলা এবং বিশৃঙ্খলার দ্বন্দ এখনও কিছুটা ইতিহাসের খাতায় লিখিত হয়। বাকিটুকুতে তৈরী হয় অলিখিত আমাদের অন্তর। আমরা যা কিছুই শিখি সেটা ইতিহাস থেকে নেয়া হলেও প্রকৃত শিক্ষা হয় একেক জনের জন্য একেক রকম। কারন ধারনা করা যায় যে শান্তি ও শৃঙ্খলার পক্ষে থাকা মানুষ ও বিপক্ষে অবস্থান বিশৃঙ্খল এই প্রধান দুইটি পক্ষের মধ্যেই আসলে যুদ্ধ হয়। মাঝখানে মারা যায় হতাশ মানুষ, অযথাই। জাতীতে জাতীতে প্রথম যেভাবে পরিচয় হত অতীতে সাগর হতে আগত বণীক অথবা আক্রমনকারী তারা যারাই হোক পরিচয়ের শুরুতে কোনই বিশ্বাস কিংবা আস্থার কাহীনি ছিলো না। তা হতে পারে না কারন প্রতিবন্ধকতাগুলি ছিলো অনেক। হয়তো বিদ্বেষ, ভয়ের চেয়েও কৌতুহলই ছিলো বেশী তখন। তাই কাছাকাছি এলেও এই যে আসার কাব্য সেটাও মিলিয়ে যেতে সময় লাগেনি।অথবা প্রসার করেছিলো বিনিময় বা বানিজ্যিক ধারনা। মানব জাতীর একাংশের এভাবে যুদ্ধ ছাড়াই কাছাকাছি এসে অন্য অপরাপর অংশের সঙ্গে বসবাস শুরুর আগেই অবিশ্বাস বা বিশ্বাসের দ্বন্দ নিবারন ও ছন্দের তৈরী করার প্রয়োজন হয়। মানুষ অন্য মানুষকে বিশ্বাস করতো না এবং কিছুসংখ্যক মানুষ নিজের ইচ্ছা ও মর্জী মাফিক অন্যকে বাধ্য করেও মজা পেত। অথবা এইসব উ...

কি নিয়েছি এবং কি দিলাম এই চিন্তা করার সক্ষমতাই হচ্ছে একটি সমাজের সুস্থতা

  কি নিয়েছি এবং কি দিলাম এই চিন্তা করার সক্ষমতাই হচ্ছে একটি সমাজের সুস্থতা। কি নিয়েছি এবং কি দিলাম এই চিন্তা করার সক্ষমতাই হচ্ছে একটি সমাজের সর্বজনীন সুস্থতার মাপকাঠি। সুস্থভাবে নিত্যদিনের লেনদেন মনে রাখার সক্ষমতাই হল সমাজের শক্তিশালী গাঠনিক ভিত্তিমূল্য।এভাবেই সমাজের পারস্পরিক নির্ভরতার চিত্রটিও ফুটে উঠে। কারণ সমাজ গড়ে ওঠে লেনদেনের ভিত্তিতে। এটাই পরে বিশ্বাসের ভিত্তিমূল তৈরি করে। বিশ্বাস, এটা হচ্ছে যে কোন কিছুরই স্থিতিশীল থাকার মূল শর্ত এবং ভিত্তিমূল। যদি ভিত্তি শক্ত না হয় তাহলে যেটাই গড়ে উঠুক না কেন সেটা বেশিদিন টিকে থাকে না। তাই জিনিসটাকে এভাবেও দেখা যায়। যে পুরো সমাজ কাঠামোটা কিসের ভিত্তিতে কাজ করে? কোন কোন শর্তের উপর নির্ভর করে থাকে সামাজিক ভারসাম্য? যে কোনো সমাজের গতিবিধি বুঝতে হলে এই প্রশ্নের উত্তর জানার বিকল্প নাই। সমাজের স্থিতিশীলতার উপাদানগুলি কি কি এই আলোচ্যসূচীর প্রারম্ভে প্রথমেই ধরে নেয়া যাক যে অর্থনীতির কাছেই সবমানুষের কিছু না কিছু দায়বদ্ধতা থাকবে। আর কি সেই দায়দায়িত্ব? দায়বদ্ধতা বাদেও আরো কিছুটা দায়দায়িত্বও থাকে হয়তো। সেগুলো হচ্ছে পরের কথা। অর্থাৎ কার কতটু...